সন্দ্বীপে “জয় সেট সেন্টার” উদ্বোধন
সন্দ্বীপের প্রতিটা ইঞ্চি মাটি ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আসবে
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সন্দ্বীপ বাউরিয়া ইউনিয়নের নাজির হাটের কুচিয়ামোড়ায় শুরু হয়েছে ‘জয় সেট সেন্টার‘ নির্মাণ কাজ। শুক্রবার এই কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দুর্গম ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া বাকি আছে, সেখানেও আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দিবো ইনশাআল্লাহ্। তখন সন্দ্বীপের প্রতিটা ইঞ্চি মাটি ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় চলে আসবে।
পলক বলেন, দেশের ৭৪ শতাংশ যুবক যাদের বয়স ২৫ বছরের নিচে। স্কুল–কলেজ, মাদরাসা ভার্সিটিতে প্রায় ৫ কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতি বছর ২৫ লক্ষ যুবক কর্মসংস্থানে প্রবেশ করছে। তাদের সবাইকে কিন্তু সরকারের পক্ষে চাকুরি দেয়া সম্ভব নয় বা তারা সবাই বিদেশে গিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে পারবে না। তারই সমাধানের জন্য আমাদের তরুণ প্রজন্মের গর্ব ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় বিভিন্ন জেলা উপজেলা ‘জয় স্মার্ট সার্ভিস এন্ড এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং সেন্টার (জয় SET Center) করছি। তিনি আরো বলেন, ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেন্টারের কাজ শেষ হতে সময় লাগবে ৩ বছর। বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলা উপজেলায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জয় সেট সেন্টার নির্মাণ কাজ শুরু হলেও মাত্র দুইটি জায়গা ১৫ কোটি ব্যয়ে এ জয় সেট সেন্টার হচ্ছে। তার একটি টুঙ্গিপাড়ায় আরেকটি এ সন্দ্বীপে।
এ সময় সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য ও নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মাহফুজুর রহমান মিতা, ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক তানজিনা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অধীনে ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি) প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক এই ‘জয় SET Center’ স্থাপন করা হবে। এ সেন্টারের নিচতলায় থাকবে এট্রিয়াম (উন্মুক্ত জায়গা), লাউঞ্জ এবং ব্রেকিং এরিয়া। এছাড়া আউটডোর ইন্টারেকশন প্লাজা এরিয়া, রেজিস্ট্রেশন রুম, জেনারেটর রুম এবং স্টোর রুম। থাকছে ১টি ল্যাব, স্টার্ট–আপ এবং প্লাগ এন্ড প্লে জোন। এছাড়াও থাকবে মিটিং রুম, নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (NOC) এবং সুইচ রুম। থাকবে ২টি ল্যাব, সেমি–কভার্ড ইন্টারেকশন বারান্দা।
এছাড়া ইডিসি প্রকল্পের আওতায় সন্দ্বীপ উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক ও বিভিন্ন সরকারি অফিসে মোট ২৪১টি উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে। এরমধ্যে ১৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান, ৩টি কলেজে, ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক এই ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় থাকবে।

ইডিসি প্রকল্পের আওতায় সন্দ্বীপ উপজেলায় ২৫টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবও স্থাপন করা হবে।
এদিনে বিকেলে হারামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চত্বরে “কানেক্টেড বাংলাদেশ” প্রকল্পের আওতায় সন্দ্বীপ উপজেলাধীন হারামিয়া ইউনিয়নে চলমান ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি স্থাপন কার্যক্রমের অগ্রগতি পরিদর্শন সহ দ্বীপের ১৪টি ইউনিয়নে চলমান ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়।
পরে উপজেলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাবের আইসিটি শিক্ষক, উইমেন এন্ড ই-কমার্সের নারী উদ্যেক্তা, ফ্রিল্যান্সার, ডিজিটাল সেন্টার, ডাকের উদ্যোক্তা ও সুশীল শ্রেণীর প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা সভায় যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী পলক স্পীড বোট যোগে সীতাকুণ্ড হয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দীন বেদন, সন্দ্বীপ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাইন উদ্দীন মিশন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোরশেদ আলম চৌধুরী। হারামিয়া ইউনিয়নের সভাপতি রহিম উল্যাহ’র সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন হারামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন।







